শুনুকপাহাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বাঁকুড়ার একটি একটি করে আসন বুঝে নেব
দি নিউজ লায়ন ; সিপিএম ও বিজেপি কে এক সারিতে ফেলে বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়ির দলীয় জনসভা থেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে সিপিএম এর অত্যাচারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় বাঁকুড়ার জয়পুর, কোতুলপুর, সিহড় , গোপীনাথপুর সহ জঙ্গলমহলের মানুষ সিপিএম এর ভয়াবহ অত্যাচার দেখেছে।
রাতের বেলায় সুড়ঙ্গ দিয়ে লাশ পাচার হয়ে যেত। মা এর সামনে ছেলেকে খুন করে দিয়েছে সিপিএম। জঙ্গলমহলে মানুষ দিনের বেলায় রাস্তায় বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই এলাকায় শান্তি ফিরেছে। তাই খুব রাগ হচ্ছে সিপিএম , বিজেপি ও কংগ্রেসের।
তাই আজ তৃনমূলকে জগাই, মাধাই ও গদাই এক হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এরা এক সাথে কাজ করেছে। তিনজনে এক হয়ে টাকা নিয়েছে ও একসাথে ভোট দিয়েছে। আমি জানি এরা কারা। একসময় যে সিপিএম এর হার্মাদ্রা মানুষের উপর অত্যাচার নামিয়ে এনেছিল আজ তারাই বিজেপির হার্মাদে পরিনত হয়েছে। রঙটা শুধু পরিবর্তন হয়েছে হৃদয় টা একই আছে।
বাংলায় বন্যা, খরা , কোভিড , মাওবাদীদের হানায় যখন জঙ্গলমহল অশান্ত হয় তখন এদের পাত্তা নেই আর আজ যখন শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তখন দিল্লী কা লাড্ডু কয়েকজনকে বাংলায় পাঠিয়েছে। এরা আপনাদের সব কেড়ে লুঠ করে নেবে। নির্বাচন এলে এরা বিভিন্ন ভাবে টাকা দেয়।
এদিন শুধু বিজেপি , সিপিএম বা কংগ্রেসকে আক্রমণ করাই নয় , শুনুকপাহাড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদেরও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, তৃনমূল কংগ্রেস করতে হলে ত্যাগী হতে হয়। তৃনমূল কংগ্রেস করতে হলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। রাজনীতিতে লোভী ,ভোগী ও ত্যাগী এই তিন ধরনের লোক থাকে। সিপিএম লোভী , বিজেপি ভোগী আর তৃনমূল কংগ্রেস যদি করতে হয় তাহলে আপনাদের ত্যাগী হতে হবে। ওদের পাল্লায় পড়বেন না। কেউ কেউ ভাবছে এখন থেকে লাইনটা করে রাখি ।বাইচান্স যদি চলে আসে। চান্সই নেই তাঁর আবার বাইচান্স। বাঁকুড়ার একটি একটি করে আসন বুঝে নেব। একটিতেও বিজেপি ও সিপিএম থাকবে না।
এদিন বিজেপি কে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে আপনাদের। আগে খেতে পেত না এখন টাকার অফার। এখন তৃনমূল কর্মী ও বিধায়ককে বলেছে দুকোটি টাকা দেব আমাদের দলে চলে আয়। এদের দেখে লজ্জা হয়। সিপিএম কে দেখে আরো বেশি লজ্জা হয়। ওরা বিজেপির পায়ে পড়েছে নিজেদের চুরির দায় থেকে বাঁচবার জন্য। আমি স্লোগান দিয়েছিলাম বদলা নয় বদল চাই। সিপিএম ও বিজেপিকে কে উদ্যেশ্য করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিই নি। চুরি ও ডাকাতি করেছ আবার এখন আরাম করে খেয়ে যাচ্ছ।
আবার এখন বিজেপি কে ধরেছ। যাতে সারদা নারদা তোমার না হয়। নির্বাচন এলেই তৃনমূলকে ভয় দেখাও। বলছে হয় ঘরে থাকো নাহয় জেলে থাকো। আমি বলছি ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতার কর। আমি জেলে থাকব আর জেলে থেকেই বাংলাকে জেতাব। বিহার নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লালুপ্রসাদ যাদবকে অনেকদিন ধরে জেলে ভরে রেখে দিয়েছ তাতে আটাকাতে পেরেছ। বিহারে ওটা তোমাদের জেতা নয়। এসব চমকানি, ধমকানি ও টাকার কাছে আমি ভয় পাইনা।
এদিন বিজেপি দল ও তাঁদের নেতৃত্বের প্রতি কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কতগুলো নেতা হয়েছে। কেউ চিনতা না এদের। এখন বলছে অস্তমিত হবে ।মা দুর্গা যেন ওদের এজেন্সি দিয়েছে। গোমূত্র খেলে করোনা হবে না। বলছে গোরুর মুত্র থেকে সোনা পাওয়া যায়। গোবর্ধন পরিকল্পনা করছে। আগে ঘুঁটে দেওয়া শিখুন। অপদার্থ একটা রাজনৈতিক দল। হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। রেল , কয়লা , বিমান সব বেসরকারিকরণ করছে। আমাদের টাকা দেয়না। আমাদের রাজ্য থেকে টাকা না তুললে কেন্দ্র থেকে আমাদের টাকা দেওয়ার কোনো দরকার নেই।
এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, গত আট বছরে এ রাজ্যে যে কাজ হয়েছে পৃথিবীর কোনো রাজ্যে এত কাজ হয়নি। আর সেই কাজের জন্য মানুষ আমাদের উপর ভরসা করে।
আগামীদিনে আমরাই থাকব। আমাদের দু একজনের ভূল ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা আগামীতে তা সংশোধন করে নেব। এদিন মূখ্যমন্ত্রী কর্মীদের উদ্যেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন। আপনারা মনে রাখবেন দলের নেত্রী হিসাবে নয় দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে আমিই সব জায়গার অবাজারভার। কে কোথায় গোপনে যোগাযোগ রাখছে , কে কার সাথে গোপনে টেলিফোনে কথা বলছে সেসবের খবর আমার কাছে আছে।
এদিন সকালে বাঁকুড়ার সার্কিট হাউস থেকে শুনুকপাহাড়ির সভাস্থলে যাওয়ার পথে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক মুখ দেখলেন বাঁকুড়ার মানুষ। সভাস্থলে যাওয়ার পথে পুয়াবাগানের কাছে মুখ্যমন্ত্রী দেখেন কর্মী বোঝাই অসংখ্য গাড়ি যানজটের কারনে রাস্তার একদিকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার লম্বা গাড়ির লাইন দেখে পুয়াবাগানের অদূরে সোনামেলা গ্রামের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ আচমকাই থেমে যায় কনভয়।
মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেন আগে কর্মীদের গাড়ি পেরোবে। প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে কনভয় দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে। কর্মীদের প্রায় সব গাড়ি পেরোনোর পর ফের সভাস্থলের উদ্যেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকায় আপ্লুত দলের নেতা কর্মীর ।

Post a Comment